নিজস্ব প্রতিবেদক: জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের ৪৩তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে কেন্দ্রীয় কর্মসূচীর অংশ হিসেবে আজ রোববার বিকেলে ছাত্র সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। রাজশাহী জেলা ও মহানগরের আয়োজনে নগরীর ঐতিহাসিক ভূবমমোহন পার্কে আয়োজিত সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন রাজশাহী মহানগর ছাত্রদলের সভাপতি আসাদুজ্জামান জনি। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদের সহ-সভাপতি পার্থ দেব মন্ডল।
প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদের রাজশাহী বিভাগীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক ও রাজশাহী মহানগর যুবদলের সদস্য সচিব রফিকুল ইসলাম রবি। বিশেষ অতিথি ছিলেন রাজশাহী জেলা ছাত্রদলের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি শাহরিয়ার আমিন বিপুল, রাজশাহী মহানগর ছাত্রদলের সিনিয়র সহ-সভাপতি মুর্তজা ফামিন, সাংগঠনিক সম্পাদক খন্দকার মাকসুদুর রহমান সৌরভ ও রাজশাহী জেলা ছাত্রদলের সংগঠনিক সম্পাদক ফায়সাল সরকার ডিকো।
রাজশাহী মহানগর ছাত্রদলের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক আকবর আলী জ্যাকি ও রাজশাহী জেলা ছাত্রদলের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক আরফিন কনকের সঞ্চালনায় সমাবেশে উপস্থিত থেকে বক্তব্য রাখেন রাজশাহী মহানগর যুবদলের আহবায়ক মাহফুজুর রহমান রিটন ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সদস্য সচিব সামসুজ্জামান চৌধুরী সানিন।

এছাড়াও জেলা, মহানগর, থানা, পৌরসভা, বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ইউনিট ও ওয়ার্ডের সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক, সাংগঠনিক সম্পাদক, আহবায়ক, সদস্য সচিব ও যুগ্ম আহবায়কবৃন্দ এবং অন্যান্য ছাত্রদল নেতৃবৃন্দসহ হাজার হাজার ছাত্রদল নেতাকর্মী সমাবেশ উপস্থিত ছিলেন। এসময়ে স্লোগানে স্লোগানে পুরো পার্ক ও এলাকা মুখরিত হয়ে উঠে। বেলা তিনটা থেকে ছাত্রদল নেতাকর্মীরা মিছিল নিয়ে নগরীর বিভিন্ন রাস্তা প্রদক্ষিণ করে সমাবেশস্থলে উপস্থিত হন।
প্রধান অতিথি তাঁর বক্তব্যে বলেন, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের গড়া ছাত্রদল কোন অন্যায়ের সাথে আপোষ করেনা। বেগম জিয়াকে তিলে তিলে মেরে ফেলবে আর ছাত্রদল বসে থাকবে সেটা হবে না। এই সরকারের মন্ত্রী, আমলা, নেতা, এমপি এবং সামান্য ছাত্রনেতারা দুর্নীতি ও মাদকের ব্যবসা করে শত শত কোটি টাকার মালিক হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে সরকারের কোন ব্যবস্থা নেয় নাই। শুধু বিএনপি, অঙ্গ ও সহযোগি সংগঠনের নেতাকর্মীদের চোখে পরে। তারা কোন অন্যায় না করলেও পুলিশ হয়রানী করছে। আটক করে নির্যাতন করছে।
তিনি আরো বলেন, শুধু গ্রেফতার নয়, খুন ও গুম করে লাশ গায়েব করে দিচ্ছে। এছাড়াও গায়েবী মামলা দিয়ে প্রতিনিয়ত তাদের হয়রানী করছে বলে তিনি বক্তব্যে উল্লেখ করেন। প্রধান অতিথি বলেন, এই সরকার তিনবারের সফল প্রধানমন্ত্রী, গণতন্ত্রের মা, বিএনপি চেয়ারপার্সন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে মিথ্যা মামলা দিয়ে এবং সেই মামলায় ফরমায়েশি রায় দিয়ে কারাগারে রেখেছে। এখন তাঁকে কারাগারের বাহিরে রাখতে দিলেও নেই কোন স্বাধীনতা। বেগম জিয়া গুরুতর অসুস্থ। তাঁকে বিদেশে নিয়ে এখনই চিকিৎসা করা প্রয়োজন।
কিন্তু এই ফ্যাসিবাদ সরকার তাঁকে বিদেশে নিয়ে চিকিৎসা করতে দিচ্ছেনা। তাঁকে তিলে তিলে মেরে ফেলার ষড়যন্ত্র করেছ। বেগম জিয়ার কিছু হলে তার দ্বায়ভার এই সরকারকেই নিতে হবে বক্তব্যে উল্লেখ করেন তিনি। সেইসাথে বেগম জিয়ার মুক্তি, গণতন্ত্র পুণরুদ্ধার ও এই স্বৈরাচার সরকারের পতনের লক্ষে খুব দ্রুত সময়ে কঠোর আন্দোলন গড়ে তোলা হবে। সেই আন্দোলনে সবাইকে রাজপথে নামার আহবান জানান প্রধান অতিথি।
বক্তব্য শেষে বেগম জিয়া ও বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানসহ বিএনপি, অঙ্গ ও সহযোগি সংগঠনের অসুস্থ্য নেতাকর্মী, দেশবাসীর সুস্থ্যতা এবং যারা মৃত্যুবরণ করেছেন তাদের রুহের মাগফিরাত কামনা এবং মুসলিম বিশ্বের শান্তি কামনায় বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত করা হয়। মোনাজাত পরিচালনা করেন জেলা ছাত্রদলের সাবেক সহ-সভাপতি রবিউল ইসলাম কুসুুম।