নিজস্ব প্রতিবেদক: দীর্ঘ ২২ বছর পর রাজশাহী সফর করলেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। সর্বশেষ তিনি ২০০৪ সালে দলের সিনিয়র মহাসচিব হিসেবে রাজশাহী সফর করেছিলেন। রাজশাহীর ঐতিহাসিক মাদ্রাসা ময়দানে বৃহস্পতিবার দুপুর ২টায় সভাস্থলে পৌঁছালে নেতাকর্মীরা স্লোগান ও ফুলেল শুভেচ্ছায় তাঁকে স্বাগত জানান। রাজশাহী জেলা ও মহানগর বিএনপির পাশাপাশি চাঁপাইনবাবগঞ্জ ও নাটোর জেলা থেকে আগত বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মীর উপস্থিতিতে জনসভা জনসমুদ্রে পরিণত হয়। জনসভায় রাজশাহী বিভাগের বিভিন্ন সংসদীয় আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থীরা পর্যায়ক্রমে বক্তব্য দেন। তারা নিজেদের নির্বাচনী অঙ্গীকার তুলে ধরে দলীয় প্রতীক ধানের শীষে ভোট প্রার্থনা করেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যের শুরুতেই তারেক রহমান ২২ বছর আগের রাজশাহী সফরের স্মৃতিচারণ করে তিনি বলেন, “রাজশাহীর মানুষের ভালোবাসা আমি কখনো ভুলিনি। দীর্ঘদিন পর আবার আপনাদের মাঝে এসে সেই পুরনো স্মৃতি ফিরে পেলাম।” এ সময়ে তিনি বলেন, বিএনপি ক্ষমতায় গেলে রাজশাহী অঞ্চলের উন্নয়নে বিশেষ পরিকল্পনা গ্রহণ করা হবে বলে তিনি প্রতিশ্রুতি দেন। এর মধ্যে পদ্মা নদী খনন, ফারাক্কা ব্যারেজ নির্মাণ, রাজশাহীতে একটি বিশেষায়িত হাসপাতাল স্থাপন, কৃষিভিত্তিক মিল ও ফ্যাক্টরি গড়ে তুলতে সহায়তা, আধুনিক হিমাগার নির্মাণ, কৃষি কার্ড বিতরণ এবং সর্বোচ্চ ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষি ঋণ সুদসহ মওকুফের উদ্যোগ নেওয়ার কথা উল্লেখ করেন।
তিনি আরো বলেন, রাজশাহী শিক্ষানগরী। কিন্তু শিক্ষার উন্নয়নে এবং শিক্ষিত বেকারদের জন্য বিগত সরকার তেমন কোন কাজ করেনি। রাজশাহীতে আইসিটি পার্ক আছে। কিন্তু কোন কাজ নেই। তিনি রাজশাহীতে কর্মসংস্থানের নানাবিধ ব্যবস্থা নেবেন। সেইসাথে বেকার যুব ও যুবাদের প্রশিক্ষিত করে দেশের বাহিরে পাঠানোর ব্যবস্থা করবেন বলে উল্লেখ করেন তিনি।
তারেক রহমান আরোও বলেন, একটি মহল নির্বাচনকে বাধাগ্রস্ত ও ক্ষতিগ্রস্ত করার ষড়যন্ত্র করছে। এ বিষয়ে নেতাকর্মীদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, “১২ তারিখের নির্বাচন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই নির্বাচনের মাধ্যমেই নির্ধারিত হবে দেশ গণতন্ত্রের পথে এগুবে, নাকি অন্য কোনো পথে যাবে বলে প্রশ্ন ছুঁড়ে দেন তিনি।”কোথাও অনাকাংখিত ঘটনা ঘটলে তার সুষ্ঠু তদন্তের জন্য তিনি অন্তর্বর্তী সরকারের প্রতি আহ্বান জানান। সেইসাথে “সঠিক তদন্ত করে দেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়ার কথা বলেন তিনি। এবারের জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে তার এই সফর ঘিরে নেতাকর্মীদের মাঝে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা লক্ষ্য করা গেছে।
উল্লেখ বৃৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে ১২টার পর বিমানযোগে রাজশাহীতে পৌঁছান তারেক রহমান। বিমানবন্দর থেকে সরাসরি তিনি মহানগরীর ঐতিহ্যবাহী হযরত শাহ মখদুম (রহ.) দরগা শরিফে যান। সেখানে জিয়ারত ও দোয়া মোনাজাত করেন তিনি। পরে দরগাহ শোক বইয়ে স্বাক্ষর করেন। দোয়া শেষে তারেক রহমান ঐতিহাসিক মাদ্রাসা মাঠে আয়োজিত জনসভার উদ্দেশ্যে রওনা দেন। বেলা ২টার দিকে তিনি সভাস্থলে আসেন।
সমাবেশে বক্তব্যে তারেক রহমান রাজশাহী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ ও নাটোরের ধানের শীষের মনোনিত প্রার্থীদের পরিচয় করিয়ে দিয়ে বলেন, ১২ জানুয়ারি পর্যন্ত আপনারা তাদের দেখে রাখবেন ১২ জানুয়ারির পর তারা আপনাদের দেখে রাখবে। রাজশাহীর জনসভা শেষে বিকেলে তারেক রহমান নওগাঁর উদ্দেশ্যে রওনা হন। এদিকে রাজশাহীর জনসভায় রাজশাহী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ এবং নাটোরের দলীয় নেতা কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। দীর্ঘদিন পর তারেক রহমানের রাজশাহী সফর বিএনপি নেতাকর্মীদের মাঝে নতুন উদ্দীপনা সৃষ্টি করেছে বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে।
রাজশাহী মহানগর বিএনপির সভাপতি মামুন অর রশিদ মানুন এর সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক মাহফুজুর রহমান রিটনের সঞ্চলনায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন তারেক রহমানের সহধর্মীনি ডাক্তার জোবাইদা রহমান, বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার উপদেষ্টা, রাসিক সাবেক মেয়র ও সংসদ সদস্য এবং রাজশাহী-২ সদর আসেনর ধানের শীষের প্রার্থী মিজানুর রহমান মিনু, বিএনপি চেয়ারপার্সন এর উপদেষ্টা ও রাজশাহী-১ আসনের ধানের শীষের প্রার্থী অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল শরীফ উদ্দিন, বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির বন ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক, রাজশাহী মহানগর বিএনপির সাবেক সভাপতি ও রাসিক সাবেক মেয়র মোহাম্মদ মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল, বিএনপি জাতীয় নির্বাহী কমিটর রাজশাহী বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক সৈয়দ শাহীন শওকত, বিএনপি জাতীয় নির্বাহী কমিটির ত্রাণ ও পুনর্বাসন বিষয়ক সহ-সম্পাদক, রাজশাহী মহানগর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও রাজশাহী-৩ (পবা-মোহনপুর) আসনের ধানের শীষের প্রার্থী এডভোকেট শফিকুল হক মিলন, বিএনপি জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও রাজশাহী জেলা বিএনপির আহ্বায়ক এবং রাজশাহী-৬ (বাঘা-চারঘাট) আসনের ধানের শীষের প্রার্থী আবু সাইদ চাঁদ।
বিশেষ অতিথি হিসেবে আরো উপস্থিত ছিলেন রাজশাহী-৫ (পুঠিয়া-দূর্গাপুর) আসনের ধানের শীষের প্রার্থী অধ্যাপক নজরুল ইসলাম, রাজশাহী-৪ (বাগমারা) আসনের ধানের শীষের প্রার্থী ডি.এম.ডি জিয়াউর রহমান, চাঁপাইনবাবগঞ্জ-১ আসনের ধানের শীষের প্রার্থী বীর মুক্তিযোদ্ধা অধ্যাপক শাহজাহান মিয়া, চাঁপাইনবাবগঞ্জ-২ সদর আসনের ধানের শীষের প্রার্থী হারুন অর রশিদ ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ আসনের ধানের শীষের প্রার্থী আমিনুল ইসলাম, নাটোর-২ সদর আসনের ধানের শীষের প্রার্থী এডভোকেট রুহুল কুদ্দুস তালকুদার দুলু, নাটোর-১ আসনের ধানের শীষের প্রার্থী ফারজানা শারমিন পুতুল, নাটোর-৩ আসনের ধানের শীষের প্রার্থী আমিরুল ইসলাম আনু ও নাটোর-৪ ধানের শীষের প্রার্থী আব্দুল আজিজ।

আরো উপস্থিত ছিলেন বিএনপি জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও রাজশাহী জেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক সাইফুল ইসলাম মার্শাল, বিএনপি জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও রাজশাহী জেলা সদস্য দেবাশিষ রায় মধু, রাজশাহী মহানগর বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা এডভোকেট এরশাদ আলী ঈশা, মহানগর বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি নজরুল হুদা, সহ-সভাপতি ওয়ালিউল হক রানা ও শফিকুল ইসলাম শাফিক, মহানগর যুবদলের ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক শরিফুল ইসলাম জনি, সদস্য সচিব রফিকুল ইসলাম রবি, জেলা যুবদলের আহ্বায়ক মাসুদুর রহমান সজন, সদস্য সচিব রেজাউল করিম লিটন, মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক মীর তারেক, সদস্য সচিব আসাদুজ্জামান জনি, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক মাসুদুর রহমান লিটন, সদস্য সচিব শাহরিয়ার আলম বিপুল, জেলা মহিলা দলের সভাপতি এডভোকেট সামশাদ বেগম মিতালী ও মহানগর মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদক অধ্যক্ষ সকিনা খাতুন, জেলা কৃষক দলের আহ্বায়ক শফিকুল আলম সমাপ্ত ও মহানগর কৃষক দলের আহ্বায়ক শরফুজ্জামান শামীম, মহানগর ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি আকবরন আলী জ্যাকি, জেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক শামীম সরকারৎ ও সদস্য সচিব আলামিনসগহ রাজশাহী, নাটোর ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা বিএনপি, অঙ্গ ও সহযোগি সংগঠনের নেতাকর্মী ও সাধারণ জনগণ।