নিজস্ব প্রতিবেদক : আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। বৃহস্পতিবার ২২ জানুয়ারি থেকে শুরু হয়েছে নির্বাচনী প্রচার প্রচারণা। এরাই অংশ হিসেবে বৃহস্পতিবার সকাল ১০টা থেকে বিএনপি জাতীয় নির্বাহী কমিটির ত্রাণ ও পুনর্বাসন বিষয়ক সহ-সম্পাদক ও রাজশাহী মহানগর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক, পবা-মোহনপুর আসনের বিএনপি মনোনীত ধানের শীষের প্রার্থী এডভোকেট শফিকুল হক মিলন দামকুড়া ইউনিয়নের বিভিন্ন ইউনিয়নে প্রচারণা করেন। সেই সাথে নির্বাচনী অফিস উদ্বোধন করেন।
তিনি পাড়া মহল্লার মধ্যে গেলে সবার মধ্যে উৎসবের আমেজ ফিরে আসে। এলাকাবাসী তাদের বিভিন্ন সমস্যার কথা বলেন। তিনি সবার কথা সুন্দরভাবে শ্রবণ করেন। সেইসাথে আগামী নির্বাচনে বিজয়ী হলে এলাকার উন্নয়নে কাজ করবেন বলে প্রতিশ্রুতি দেন। তিনি বলেন, বিএনপি দীর্ঘ ১৮ বছর ক্ষমতার বাইরে আছে। বিএনপি যখন ক্ষমতায় ছিল, রাস্তাঘাট ও অবকাঠামো উন্নয়নে কাজ করেছে। এরপর স্বৈরাচার আওয়ামী লীগ সরকার দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থেকে কোন কাজ করেনি। তারা প্রতিটি প্রকল্পের টাকা আত্মসাৎ করে নিজের ব্যাংক ব্যালেন্স করেছে।
তিনি বলেন, বিএনপি জনগণের দল। বিএনপি যখন ক্ষমতায় থাকে দেশের ও দেশের জনগণের উন্নয়নে কাজ করে। পবার দামকুড়া ইউনিয়নের বিভিন্ন ওয়ার্ডের রাস্তাঘাট সামাজিক ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের উন্নয়ন করা হবে। সেই সাথে যেসব রাস্তাঘাট ভেঙ্গে গেছে তা দ্রুত সংস্কারের ব্যবস্থা করা হবে বলে জানান তিনি। তিনি বলেন, অনেক রাস্তা এখনো কাঁচা রয়েছে, সে সকল রাস্তা পাকা করার ব্যবস্থা করা হবে। শুধু তাই নয় পানি নিষ্কাশনের জন্য ড্রেন এবং শীতলাই যে রেলওয়ে স্টেশনটি রয়েছে সেটা চালু করা হবে এবং এখান থেকে লোকজনের যাতায়াতের ব্যবস্থা করা হবে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
তিনি বলেন, বিএনপির উপরে যে অত্যাচার নির্যাতন খুন ও ঘুম গুম হয়েছে, তা ইতিহাস হয়ে থাকবে। পতিত সরকারের আমলে বিএনপি নেতা কর্মীরা একজন ঘরে ঘুমাতে পারেন। বিনা কারণে তাদেরকে মামলা দিয়ে হয়রানি করা হয়েছে সেইসাথে জেলে পুড়ে রাখা হয়েছে। সকল নির্যাতন সহ্য করে বিএনপি কর্মীরা এখনো টিকে আছে। এখন সময় এসেছে দেশ গড়ার। ১২ই ফেব্রুয়ারি সকলকে ধানের শীষে ভোট প্রদান করার জন্য অনুরোধ করেন তিনি। তিনি আরো বলেন, বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়াকে যেভাবে নির্যাতন করে তিলে তিলে হত্যা করা হয়েছে, তা সবাই জানে। দেশবাসী এই স্বৈরাচার খুনি হাসিনার বিচার করবে।
তিনি বলেন, তারেক রহমানকে হত্যা করার জন্য যেভাবে নির্যাতন করা হয়েছে, তা সকল বর্বরতা ছাড়িয়ে গিয়েছে। বিএনপির সেই নেতা দীর্ঘ ১৮ বছর পরে দেশে ফিরে এসেছেন। তিনি এখন দেশ গড়ার কাজে আত্মনিয়োগ করেছেন। তিনি দেশের উন্নয়নের জন্য ৩১ দফা দিয়েছেন। ৩১ দফা বাস্তবায়িত হলে বাংলাদেশ একটি উন্নত রাষ্ট্রে পরিণত হবে বলে উল্লেখ করেন তিনি। এজন্য কারো কথায় কান না দিয়ে এবং জামায়াতের মিথ্যা কথায় বিভ্রান্তি না হয়ে ধানের শীষে ভোট প্রদান করে উন্নয়নের অংশীদার হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

এদিকে প্রার্থী যেদিকেই যান এলাকার লোকজন ঘিরে ধরেন এবং তার সাথে কথা বলেন এবং মাথায় হাত দিয়ে দোয়া করতে দেখা যায়। সেই সাথে তারা ধানের শীষে ভোট দেওয়ার জন্য দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। তারা বলেন, দেশবিরোধী ও দেশদ্রোহী কোন দলকে তারা ক্ষমতায় দেখতে চান না। যারা বাংলাদেশ নামে একটা ভূখণ্ড হোক তা চায়নি, ওই দলকে ভোট দেওয়ার প্রশ্নই আসে না বলে উল্লেখ করেন তারা।
প্রচারণায় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা জেলা বিএনপির সদস্য শাজাহান আলী, বিএনপির সদস্য সচিব আব্দুর রাজ্জাক, দামকুড়া ইউনিয়ন বিএনপি’র আহ্বায়ক এনামুল হক কনক, রাজপাড়া থানা বিএনপির সাবেক সভাপতি শওকত আলী, জেলা যুবদলের সাবেক সভাপতি মোজাদ্দেদ জামানি সুমন সহ পবা ইউনিয়নের বিএনপি অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের শত শত নেতাকর্মীয় সাধারণ জনগণ।