নিজস্ব প্রতিবেদক: রাজশাহীর গোদাগাড়ীর বরেন্দ্রর লালমাটিতে পরীক্ষামূলকভাবে চাষ হচ্ছে শীতকালীন সবজ্বী ব্রকলি। এ সবজী চাষকে কৃষকের মধ্যে ছড়িয়ে দিতে এর চাষ পদ্ধতি ও গুনাগুন সম্পর্কে তুলে ধরতে মঙ্গলবার বিকেলে কাঁকনহাট পৌর সভার কাদমা ফুলবাড়ী গ্রামে স্থানীয় কৃষকদের সমন্ববয়ে মাঠ দিবস অনুষ্ঠিত হয়। কৃষক মার্তিন সরেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গোদাগাড়ী উপজেলা কৃষি অফিসের কাঁকনহাট ব্লকের উপসহকারী কৃষি অফিসার আশরাফুল আলম।
জাপান ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন এর আর্থিক সহযোগিতায় এবং গ্রাম বিকাশ কেন্দ্র (জিবিক) এর আয়োজনে অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন গ্রাম বিকাশ কেন্দ্র এর লাইফ প্রকল্পের প্রকল্প সমন্বয়কারী আবু জাফর, কাঁকনহাট প্রাণীসম্পদ কল্যাণ কেন্দ্রের এআই টেকনিমিয়ান শামিম আক্তার ও কৃষানী সুশান্না মুর্মুসহ অত্র সংস্থার কর্মীবৃন্দ এবং অন্যান্য কৃষান কৃষানী।
মাঠ দিবস উপলক্ষে উপস্থিত সকলেই ব্রকলির ক্ষেত পরিদর্শন করেন। এসময়ে প্রধান অতিথি বলেন, ব্রকলি বরেন্দ্র অঞ্চলে প্রথম চাষ হচ্ছে। এটি ২০০০ বছর পূর্ব থেকে ইতালী চাষ হচ্ছে। তবে বাংলাদেশেও এখন অনেক চাষ হলেও মানুষের মধ্যে এখনো কপির মত এত জনপ্রিয় হয়ে উঠেনি। জনগনের মধ্যে এই সবজী সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি করতে হবে। কারন এই সবজীতে ক্যালসিয়াম, পটাশিয়াম, ফোলেট ও আশ আছে। এছাড়াও এই সবজী হৃদরোগ এবং ক্যান্সার প্রতিরোধ করে।

তিনি আরো বলেন, ব্রকলি জারণরোধী (অ্যান্টিঅক্সিডেডন্ট) ভিটামিন এ এবং সি সরবরাহ করে কোষের ক্ষতি রোধ করে। ব্রকলি মোট তিন ধরনের দেখা যায়। এই সবজীতে উচ্চমাত্রায় পুষ্টিগুন থাকায় মানবদেহের জন্য অত্যন্ত উপকারী। মাত্র ১০০ গ্রাম ব্রকলি শরীরে প্রতিদিনের ভিটামিন সি এর চাহিদার ১৫০ ভাগ পূরন হতে পারে। এই সবজীতে আয়রন, জিয়াক্সথিন, বিটা ক্যারোটিন ও ক্যারোটিনয়েডস রুটেনের মত খুবই গুরুত্বপূর্ণ পুষ্টি উপাদান রয়েছে। এই সবজী রান্না এবং সালাদ করেও খাওয়া যায়।
প্রধান অতিথি আরো বলেন, ব্রকলিতে থাকা বিটা ক্যারোটিন, এস্ট্রোজেন ক্যান্সারের বিরুদ্ধে লড়তে সাহায্য করে। বিশেষ করে স্তন ও জরায়ুর ক্যান্সার প্রতিরোধে অত্যন্ত কার্যকরী। সেইসাথে প্রোস্টেট, কোলন, ফুসফুস ও যকৃত প্রতিরোধে অত্যন্ত কার্যকরী বলে জানান তিনি। এই সবজী খেলে সর্দি ও কাশির সমস্যা কমে যায়। এছাড়াও ক্যালসিয়াম ও ভিটামিন কে হাড়ের জন্য খুবই ভালো। সেইসাথে হজমে সহায়তা এবং নানাবিধ ক্ষতিকারক উপাদান জন্মানোতে বাধা দান করে।
চাষ পদ্ধিতি সম্পর্কে তিনি বলেন, প্রতি শতক জমিতে ২৫-৩০ দিন বয়সের চারা রোপন করতে হয়। চারা রোপনের পূর্বে ভাল করে জমি চাষ করে মাটি ঝুড় ঝুড়ে করে নিতে হয়। সেইসাথে জৈব সার, গোবর ও ছাই দিলে আরো ভাল হয়। এই সবজী চাষ থেকে শুরু করে উত্তোলন পর্যন্ত তিন থেকে চার বার সেচ দিলেই যথেষ্ট। তবে গাছের গোড়ায় যেন পানি জমে না যায় সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। সেইসাথে জমির উপরে নেট দিলে এটা বিষমুক্তভাবে চাষ করা সম্ভব। যা গ্রাম বিকাশ কেন্দ্র চেষ্টা করে যাচ্ছে। এক একর জমিতে অনায়াসে সাড়ে চার থেকে ছয় টন ব্রকলী উৎপাদন করা সম্ভব বলে জানান তিনি।

ব্রকলি চাষী কাদমা ফুলবাড়ি গ্রামের কৃষাণী সুশান্না মুর্মু বলেন, গ্রাম বিকাশ কেন্দ্র সংস্থার পরামর্শে মাত্র দুই কাঠা জমিতে পরীক্ষামূলকভাবে তিনি এই সবজীর চাষ করেন। দুই কাঠায় এ পর্যন্ত সব মিলিয়ে তার দুই হাজার টাকার মত ব্যায় হয়েছে। কিন্তু তিনি এ পর্যন্ত বিক্রি করেছেন প্রায় সাড়ে ছয় হাজার টাকা। এই সবজী চাষে তেমন শ্রম দিতে হয়না। বাড়ির সকল কাজ করেও অনাসায়ে এই সবজী চাষ করে লাভবান হওয়া সম্ভব। এখনো তার ক্ষেতে প্রায় শতাধীক ব্রকলী রয়েছে। এগুলো তিনি বিক্রি এবং বাড়িতে খাবেন বলে জানান। সেইসাথে অনান্য কৃষক-কৃষানীদের এই ধরনের উচ্চমান পুষ্টি সমৃদ্ধ সবজী চাষ করে অধিক লাভ করার জন্য পরামর্শ দেন এই কৃষানী।