নিজস্ব প্রতিবেদক: নওগাঁর পোরশা উপজেলার দুয়ারপাল হাফেজিয়া মাদ্রাসার জমি দখলকে কেন্দ্র করে চলছে টানটান উত্তেজনা। অত্র মাদ্রাসার সাধারণ সম্পাদক আবু সাঈদ বলেন, এই মাদ্রাসা ১৯৫৭ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। সেই থেকে অত্র মাদ্রাসা হতে কোরআনের আলো ছড়িয়ে পড়ছে। মাদ্রাসাটিকে স্থায়ীভাবে রাখার জন্য ১৯৮৪ সালে মৃত ইদ্রিস আলীর নিকট হতে মৌজা কালাইবাড়ি, জে.এল.নং-৮৯, দাগ নং-সাবেক ১৮৯, হাল দাগ নং-২৫০, খতিয়ান আর.এস-৯১, জমির পরিমান ৫২ কাত ৮শতক মাদ্রাসার নামে ক্রয় করে সেখানে ভবন নির্মাণ করা হয়। এই ভবনে বর্তমানে আড়াইশত এর বেশী শিক্ষার্থী কোরআন শিখে হাফেজ হচ্ছেন।
তিনি আরো বলেন, বর্তমানে ইদ্রিস আলীর ছেলেরা বানী ইসরাইল (আকালু), ইসমাইল, আবু সাঈদ ও ফজলুর রহমান (শুকুর) মিলে বাবার বিক্রিত সম্পত্তি তাদের দাবী করে মাদ্রাসা ভেঙ্গে ফেলার হুমকী দিয়ে আসছিলো। এখনো তা অব্যাহত রয়েছে বলে জানান তিনি। তিনি আরো বলেন, এ নিয়ে স্থানীয় চেয়ারম্যান ও গ্রামবাসী মিলে বসে একটি মিমাংশা হলেও বানী ইসরাইল গংরা তা না মেনে গায়ের জোরে জমি দখল করার জন্য উঠেপরে লেগে আছে। এনিয়ে চলতি বছরের ২৩ এপ্রিল মাদ্রাসা কমিটি এবং মাদ্রাসার পক্ষের লোকজনের উপর বানী ইসরাইল গংরা সন্ত্রাসীদের নিয়ে হামলা চালায় এবং মাদ্রাসায় ব্যপক ভাঙ্গচুর করে।
বাধা দিতে গেলে তাদের উপরে হামলা করে। এনিয়ে ঐ দিনেই স্থানীয় থানায় মামলা দিতে গেলে থানা কর্তৃপক্ষ মামলা না নিলে একই মাসের ২৮ তারিখ নওগাঁ ম্যাজিষ্ট্রেট কোর্টে তিনি একটি মামলা দায়ে করেন। বিবাদীগণ মারামরী করেই থেমে নেই। বিভিন্ন সময়ে মাদ্রাসা পরিচালনা কমিটির সদস্য এবং শিক্ষকদের নামে বিভিন্ন স্থানে অভিযোগ ও থানায় মামলা করছেন। যা এখনো চলমান।
তিনি আরো বলেন, পোরশা শিক্ষা অফিসার বরাবরে বিবাদী বানী ইসরাইল গং তাদের নামে অর্থ আত্মস্বাতের মিথ্যা অভিযোগ এনে একটি দরখাস্ত করেন। সেই অভিযোগের শুনানীর জন্য তিনি গত সোমবার শিক্ষা অফিসে যান। সেখানে কাজ শেরে বের হয়ে আসলে পূর্বে থেকে ওঁত পেতে থাকা সন্ত্রাসী বানী ইসরাইল গংরা দলবল নিয়ে তাঁর উপরে অতর্কিত হামলা চালায়। এতে তিনি গুরুতর আহত হন এবং রাজশাহী মেডেকেল কলেজ হাসপাতালের ৩নং ওয়ার্ডে ভর্তি হন। চিকিৎসা নিয়ে মঙ্গলবার ছুটি শেষে বাড়ি যান বলে জানান আবু সাঈদ। এনিয়ে থানায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে বলে জানান তিনি।
ঘটনা সম্পর্কে অত্র মাদ্রাসার সভাপতি হাফেজ আব্দুল মালেক, সহ-সভাপতি তৈমুর রহমান, সদস্য আবুল কালাম আজাদ, জাকায়িরা বিশিষ্ট গ্রামবাসী আলহাজ্ব আজাহার আলী আমিন, মোখলেসুর রহমান, মোবারক হোসেন ও অত্র মাদ্রাসার প্রধান শিক্ষক হাফেজ ইউনুস আলীসহ অন্যানরা বলেন, বানী ইসরাইল (আকালু)গংরা এই জমি কোনভাবেই পাবেনা। তবে তারা জোর করছে। কোরআন শিক্ষা চলমান রাখার লক্ষে অত্র মাদ্রাসার ভবন ও জমি রক্ষার্থে এই সকল জবরদখলকারীদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তিরন দাবী জানান মাদ্রাসা পরিচালনা পর্ষদ ও এলাকাবাসী।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে বানী ইসরাইল বলেন, মাদ্রাসার মধ্যে থাকা ৮শতক জমি তাদের। এই জমি নিয়ে মাদ্রাসা কমিটির সাথে একটা ফ্যাসাদ চলছে। কিন্তু তারা কেউ সাধারণ সম্পাদক আবু সাঈদকে মারপিট করেননি বলে জানান।