নিজস্ব প্রতিবেদক: স্বাধীনতার পঞ্চাশ বছরে আদিবাসীদের প্রত্যাশা ও প্রাপ্তি শীর্ষক জাতীয় আদিবাসী পরিষদের আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। জাতীয় আদিবাসী পরিষদ রাজশাহী জেলা এবং মহানগর কমিটির যৌথ আয়োজনে বুধবার সকাল সাড়ে ১০টায় রাজশাহীর জামিল আক্তার রতন মিলনায়নে এই সভা অনুষ্ঠিত হয়। আলোচনার শুরুতে স্বাধীনতা যুদ্ধে আত্মদানকারি সকল শহীদদের আত্মার প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে এবং মঙ্গল কামনা করে এক মিনিট নিরবতা পালন করা হয়।
সভায় জাতীয় আদিবাসী পরিষদ রাজশাহী জেলার সভাপতি বিমল চন্দ্র রাজোয়াড়ের সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন, জাতীয় আদিবাসী পরিষদের উপদেষ্টা এবং বাংলাদেশ ওয়ার্কার্স পার্টি রাজশাহী মহানগর কমিটির সাধারণ সম্পাদক দেবাশীষ প্রামাণিক দেবু ও রাজশাহী জেলার উপদেষ্টা রফিকুল ইসলাম পিয়ারুল। জাতীয় আদিবাসী পরিষদ কেন্দ্রীয় কমিটির প্রেসিডিয়াম সদস্য ক্রিষ্টিনা বিশ^াস, ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক গণেশ মার্ডি, রাজশাহী বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক নরেন চন্দ্র পাহান, রাজশাহী মহানগর কমিটির সাধারণ সম্পাদক আন্দ্রিয়াস বিশ^াস, রাজশাহী জেলা সাধারণ সম্পাদক সুশেন কুমার শ্যামদুয়ার।
আরো বক্তব্য রাখেন গোদাগাড়ী উপজেলা কমিটির সাবেক সভাপতি নন্দলাল টুডু, সভাপতি রবীন্দ্রনাথ হেমব্রম, সাধারণ সম্পাদক সোনা হেমব্রম, তানোর উপজেলা আহবায়ক কমিটির সদস্য বিশ^জিত রবিদাস, দুর্গাপুর উপজেলা সাধারণ সম্পাদক গোলাপী সরেন, আদিবাসী যুব পরিষদ কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি নবদ্বীপ লাকড়া, আদিবাসী ছাত্র পরিষদ কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি সাবিত্রী হেমব্রম এবং সাধারণ সম্পাদক তরুন মুন্ডা।

সভায় বক্তারা বলেন, স্বাধীন বাংলাদেশে আদিবাসীদের প্রত্যাশার তুলনায় অপ্রাপ্তির পাল্লা বেশ ভারি। দীর্ঘ দিন ধরে আদিবাসীদের অস্তিত্বের দাবিগুলো এখনো সরকার পুরণ করতে পারে নি।, আদিবাসীদের সাংবিধানিক স্বীকৃতি ও সমতল আদিবাসীদের ভূমি কমিশণ গঠনের মৌলিক দাবিগুলো স্বাধীনতার পঞ্চাশ বছরেও পুরণ হয় নি। ফলে আদিবাসীদের ভূমি বেদখল হয়ে যাচ্ছে, বাপ-দাদার জমি থেকে উচ্ছেদ হয়ে যাচ্ছে, খুন ধর্ষণের ঘটনা নিত্য নৈমিত্তিক ঘটনায় পরিণত হয়েছে।
তারা আরো বলেন, ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী শব্দ ব্যবহার করে আদিবাসীদের পরিচয়হীন করার পায়তারা করা হচ্ছে। যা ৭১’র মুক্তিযুদ্ধের চেতনার সংবিধান এবং সরকারের মুলনীতির পরিপন্থী। দেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে শত শত আদিবাসী নারী পুরুষ নিজের জীবনের মায়া ত্যাগ করে এবং জীবন বিসর্জন দিয়ে দেশের লাল সবুজের পতাকার অংশিদার হয়েছেন। অথচ এই আদিবাসীদের নানা নামে আখ্যায়িত করা হচ্ছে। যা অত্যন্ত দু:খজনক বলে আখ্যায়িত করেন তারা । বক্তারা আরও বলেন, আমরা চাই আদিবাসীদের নায্য প্রাপ্য আদিবাসীদের বুঝিয়ে দেওয়া হোক। সকল নাগরীকের মত আদিবাসীরাও সমমর্যাদা এবং সুযোগ সুবিধা নিয়ে এদেশে বসবাস করুক। চলতি বছরের আগামী ১৮ মে জাতীয় আদিবাসী পরিষদের রাজশাহী বিভাগীয় সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে বলে ঘোষনা দেন নেতৃবৃন্দ।