বৃহস্পতিবার, ১৪ মে ২০২৬, ০১:৩০ অপরাহ্ন
ব্রেকিং নিউজ
রাজশাহীতে কোরবানীর পশু উদ্বৃত্ত প্রায় নব্বই হাজার: জেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা চাঁদা না দেওয়ায় আবাসন ব্যবসায়ীকে অপহরণের চেষ্টা: থানায় অভিযোগ রাজশাহীতে বিএসটিআই’র অনুমোদনহীন ও মেয়াদ উত্তীর্ণ কসমেটিকস বিক্রি করায় জরিমানা রাজশাহীতে খাল খননে ৫০ শতাংশ অগ্রগতি: জেলা প্রশাসক একজন কাজ পাগল মানুষ পবা-মোহনপুরের এমপি মিলন রাসিক ১৬নং ওয়ার্ড সাবেক কাউন্সিলর বেলাল আহমেদের মায়ের ইন্তেকাল রাজশাহীতে স্বল্পমূল্যে টিসিবির পণ্য বিক্রি শুরু দুর্নীতি প্রতিরোধে জনসচেতনতা বাড়াতে রাজশাহীতে দুদকের প্রশিক্ষণ কর্মশালা রাজশাহীতে জলবায়ু সহনশীল খাদ্য ব্যবস্থা নিয়ে আঞ্চলিক সংলাপ অনুষ্ঠিত রাজশাহীতে রিপ্রেজেনন্টেটিভ প্রতিবাদ সভা ও মানববন্ধন অনুষ্ঠিত

বেগম জিয়া বাংলাদেশের প্রথম শারীর একজন মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন:মিলন

  • প্রকাশ সময় শুক্রবার, ১৬ জানুয়ারী, ২০২৬
  • ৭১ বার দেখা হয়েছে

নিজস্ব প্রতিবেদক: বাংলাদেশের অবিসংবাদিত নেতা আপোসহীন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া দেশের মানুষের জন্য কোন অপশক্তির কাছে মাথানত ও আপস করেননি। তিনি ছিলেন আপোসহীন দেশনেত্রী। তিনি ছিলেন দেশের অন্যতম মুক্তিযোদ্ধাদের মধ্যে একজন। কারণ এরপর ১৯৭১ সালে শুরু হয় বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ। এই যুদ্ধে অংশগ্রহন ও পূর্ব পাকিস্তানের জনগণকে বাঁচাতে মেজর জিয়াউর রহমান পূর্ব পাকিস্তানে চলে আসেন।

এরপর তিনি বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করেন। একজন সামরিক সদস্য যদি তার দেশের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ঘোষণা করেন তাহলে সে দেশ তাঁকে কি বলে আখ্যাদেয় তা সবাই জানে। সে অবস্থাতেই বেগম জিয়া কৌশলে এসে চট্টগ্রাম থেকে জাহাজে করে ঢাকা গেলে তিনি তাঁর দুই সন্তানকে নিয়ে ঢাকায় পৌঁছালে পাকিস্তানী বাহিনীর নিকট তাঁরা আটক হন। তাঁর স্ত্রী হয়ে তিনি দীর্ঘ নয়মাস সেখানে তিনি আটক ছিলেন। সেখান নিজেকে আরো দৃঢ়চিত্তের করে গড়ে তুলেছিলেন।

তিনি দেশের স্বার্থে নিজের ও সন্তাদের জন্য পাকিস্তানী সেনাবাহিনীর নিকট মাথা নত করেনি। এমনকি তাদের নিকট সন্তানসহ নিজেকে ছাড়িয়ে নিয়ে কোন প্রকার অনুরোধ করেননি। তার এই ত্যাগ জাতী সারাজীবন মনে রাখবে। এজন্য তিনি দেশের অন্যতম মুক্তিযোদ্ধাদের মধ্যে একজন হয়েছিলেন। তিনিও একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা বলে উল্লেখ করেন বিএনপি জাতীয় নির্বাহী কমিটির ত্রাণ ও পুনর্বাসন বিষয়ক সহ-সম্পাদক, রাজশাহী মহানগর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক এবং পবা-মোহনপুরের বিএনপি মনোনীত ধানের শীষের প্রার্থী এডভোকেট শফিকুল হক মিলন। শুক্রবার বিকেলে পবা উপজেলা কাটাখালী পৌর বিএনপি, অঙ্গ ও সহযোগি সংগঠনের আয়োজনে শ্যামপুর উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত বিএনপি চেয়ারপার্সন তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার আত্মার মাগফিরাত কামনায় দোয়া মাহফিলের প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি আরো বলেন, ১৯৮১ সালে প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানকে হত্যা করার পরে আব্দুস সাত্তার বিএনপির হাল ধরেছিলেন। কিন্তু তার পক্ষে দলের ক্ষমতা ধরে রাখতে পারেনি। এরপর বেগম জিয়া দলের হাল ধরেন। তিনি সুন্দর একটি সেটাপ দিয়ে গেছেন। দীর্ঘ সতের বছর প্রবাশ জীবন কাটিয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান দেশে আসেন। তিনি বিদেশে থাকার কারন হচ্ছে দেশে সে সময়ে বিরাজনীতি শুরু হয়েছিলো। মাইনাস টু নয়, মাইনাস ওয়ান ফরমুলা করে বেগম জিয়া, তারেক রহমান ও আরাফাত রহমান কোকোকে আটক করা হয়েছিলো। তাদের জিম্মি করে বেগম জিয়াকে দেশের বাহিরে চলে যেতে বলেন। কিন্তু তিনি দেশ ছেড়ে যাননি। সেই ছেলে দেশে আসার পরে ৩০ ডিসেম্বর বেগম জিয়া দুনিয়া ছেড়ে চলে গেছেন। এরপর তারেক জিয়া দলের হাল ধরেছেন। সেইসাথে চেয়ারম্যান হয়েছেন। এখন দেশে আর বিএনপির মধ্যে কোন বিভেদ নাই। রাজশাহীর কোথাও কোন বিভেদ নাই বলে উল্লেখ করেন তিনি। সবাই এখন একতাবদ্ধ হয়েছেন। এতে নেত্রী আত্মার শান্তি পাচ্ছেন বলে জানান তিনি।

তিনি আরো বলেন, বেগম খালেদা জিয়া ১৯৪৫ সালে তিনি জন্ম গ্রহন করেছিলেন। আর ১৯৬০ সালে তাঁর মেজর জিয়াউর রহমানের সাথে মাত্র পনের বছল বয়সে বিয়ে হয়েছিলো। আর ১৯৬৫ সালে ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধ শুরু হলে মেজর জিয়াউর রহমান পাকিস্তানের হয়ে ভারতের বিপক্ষে যুদ্ধে অবতীর্ন হয়েছিলেন। সেই যুদ্ধে ভারত পরাজিত হয়েছিলো। সেনা সদস্য যাদের বাড়িতে আছে, আর সেই সদস্য যদি যুদ্ধে যায় তাহলে ঐ পরিবারের সদস্যদের অবস্থাটা কি হয় তা ঐ পরিবারের সদস্যরাই জানেন। বেগম জিয়া তখন থেকেই তিনি নিজেকে প্রস্তুত করেছিলেন। মাত্র বিশ বছর বয়সে তিনি কঠিন সময় পার করেছেন। একজন প্রতিরক্ষা বাহিনীর কর্মকর্তা যদি সেই দেশের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষনা করেন। তাহলে সেই সদস্যর কি অবস্থা হতে পারে তা সবাই অনুমান করতে পারে।

তিনি বলেন, তাঁর মৃত্যু সবাইকে একতাবদ্ধ হতে শিখিয়ে গেছে। তিনি দেশের মানুষের জন্য যে আলোকবর্তিতা ছড়িয়ে গেছে তা কেউ কোনদিন ভুলতে পারবেনা। তিনি দেশে যে সম্মান পেয়েছেন এরকম সম্মান আর কেউ পায়নি। তাকে বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকার তাকে সর্বোচ্চ গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি হিসেবে ঘোষণা দিয়েছিলেন বলে উল্লেখ করেন তিনি। তিনি আরো বলেন, বেগম জিয়া দেশের স্বাধীনতা সার্বভৌমত্ব রক্ষায় সবাইকে একতাবদ্ধ হয়ে কাজ করতে শিখিয়ে গেছেন। যার উৎকৃষ্ট উদাহরণ ও জ্বলন্ত প্রমাণ তার মৃত্যুর পরে তাঁর জানাযায় বিশ্বের ২৬টি রাষ্ট্র থেকে নেতৃবৃন্দ এসেছিলেন। শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের পরে বিশ্বে এমন কোন নেতার জানাযায় এত লোক হয়নি বলে জানান তিনি।

তিনি বেগম জিয়া, আরাফাত রহমান কোকো, জুলাই যুদ্ধে সকল শহীদ ও দীর্ঘ সতের বছরে স্বৈরাচার পতনের আন্দোলনে বিএনপি, অঙ্গ ও সহযোগি সংগঠনের নেতাকর্মী, সমর্থক এবং সকল মৃত মুসলিম ব্যক্তির আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন। সেইসাথে যারা অসুস্থ আছেন তাদের সুস্থতা কামনা করে, আসছে নির্বাচনে ধানের শীষের পক্ষে সবাইকে একজোট হওয়ার আহ্বান জানিয়ে বক্তব্য শেষ করেন। বক্তব্য শেষে দোয়া ও মোনাজাত করা হয়।

দোয়া মাহফিলে সভাপতিত্ব করেন দর্শন পাড়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি কাটাখালী পৌর বিএনপির আহ্বায়ক নূরুল ইসলাম। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির সদস্য জেলা বিএনপির সদস্য ও নওহাটা পৌর সাবেক মেয়র শেখ মকবুল হোসেন, জেলা বিএনপির সদস্য ও পবা উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক আলী হোসেন, সদস্য সচিব সহকারী অধ্যাপক আব্দুর রাজ্জাক, যুগ্ম আহ্বায়ক আব্দুল হালিম, মতিহার থানা বিএনপির সাবেক সভাপতি আনসার আলী, কাটাখালী পৌর বিএনপির সদস্য সচিব নাজমুল হক, সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক অধ্যক্ষ সিরাজুল, শ্রমিকদল কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল্লাহ, ৭নং ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি মাজদুর রহমান।

আরো উপস্থিত ছিলেন, রাবি প্রফেসর ড. দেলোয়ার হোসেন, রাজশাহী জেলা ওলামা দলের সদস্য সচিব নুরুল ইসলাম, কাটাখালী পৌর ওলামা দলের সদস্য সচিব নাইম আব্দুল্লাহসহ বিএনপি, অঙ্গ ও সহযোগি সংগঠনের নেতাকর্মী, সমর্থক ও সাধারণ জনগণ।

 

শেয়ার করুন

আরো নিউজ দেখুন
© All rights reserved © 2021 dailysuprovatrajshahi.com
Developed by: MUN IT-01737779710
Tuhin