নিজস্ব প্রতিবেদক: বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ, জীববৈচিত্র্য রক্ষা এবং পরিবেশ সম্পর্কে জনসচেতনতা বাড়ানোর লক্ষ্যে রাজশাহীতে অনুষ্ঠিত হয় Wildlife Awareness Science Festival ২০২৬। বাংলাদেশ অ্যানিমেলস অ্যালাইস ভলান্টিয়ার্স (BAAV)-এর উদ্যোগে আয়োজিত এ উৎসবে শিক্ষার্থী, তরুণ ও প্রকৃতিপ্রেমীদের মধ্যে বন্যপ্রাণী ও পরিবেশ সংরক্ষণ বিষয়ে সচেতনতা তৈরির ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাজশাহী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (আরডিএ) চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদ সুইট। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সেভ দ্য নেচার অ্যান্ড লাইফের চেয়ারম্যান জিজানুর রহমান, রোটারিয়ান ডা. হেমায়েতুল ইসলাম আরিফ, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-প্রধান ভেটেরিনারিয়ান বদিউল আলম লিংকন ও এমবি আলম।
প্রধান অতিথি বলেন, যারা বড় আছেন, তাদের প্রতি সহানুভূতি, সহযোগিতা পাবে ছোটরা। বহু প্রাণী রক্ষা আন্দোলনের সাথে অনেকেই জড়িত। সরকার তাঁকে আস্থা এবং বিশ্বাস ও ভরসার সাথে এই দায়িত্ব দিয়েছেন। এই দায়িত্ব পালন করার মপ্রায় ৩ মাস পার হয়ে গেছে। এর মধ্যে এই মহানগরীতে তাঁরা প্রায় তিন হাজার গাছের চারা রোপন করেছেন। রাজশাহী শহরটাকে সুন্দর প্রাণবন্ত শহর দেখতে চান বলে উল্লেখ করেন তিনি। রাজশাহী শহরের বসবাসকারী সকলের সুন্দর জীবন কামনা করে বক্তব্য শেষ করেন তিনি।
আয়োজকরা জানান, বর্তমান সময়ে নতুনভাবে নগরায়ণ, বন উজাড়, আবাসস্থল ধ্বংস, অবৈধ শিকার ও বন্যপ্রাণী পাচারের কারণে দেশের জীববৈচিত্র্য নানা ধরনের হুমকির মুখে পড়ছে। এসব বিষয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা বাড়ানো এবং তরুণ প্রজন্মকে বন্যপ্রাণী সংরক্ষণে সম্পৃক্ত করার লক্ষ্যেই এ ধরনের আয়োজন করা হয়েছে।
উৎসবে বন্যপ্রাণীর জীবন, প্রকৃতিতে তাদের ভূমিকা এবং পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় প্রাণীদের গুরুত্ব তুলে ধরা হচ্ছে। একই সঙ্গে বন্যপ্রাণী সম্পর্কে প্রচলিত নানা ভুল ধারণা দূর করা এবং প্রাণী ও প্রকৃতির প্রতি মানবিক আচরণ নিশ্চিত করার বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়।
আয়োজকদের প্রত্যাশা, বিজ্ঞানভিত্তিক তথ্য ও সচেতনতামূলক কার্যক্রমের মাধ্যমে তরুণ প্রজন্মের মধ্যে বন্যপ্রাণী ও জীববৈচিত্র্য রক্ষার বিষয়ে আগ্রহ তৈরি হবে। পাশাপাশি প্রকৃতি ও বন্যপ্রাণীর প্রতি দায়িত্বশীল আচরণ গড়ে উঠবে এবং স্থানীয় পর্যায়ে সংরক্ষণ কার্যক্রম আরও শক্তিশালী হবে।
অনুষ্ঠানে সংশ্লিষ্ট সংগঠনের স্বেচ্ছাসেবক, পরিবেশ ও প্রাণীপ্রেমী, শিক্ষার্থী, গবেষক এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ গ্রহন করেন।
এই ফেস্টিভ্যাল এর মাধ্যমে রাজশাহীতে বন্যপ্রাণী ও পরিবেশ সংরক্ষণ নিয়ে জনসচেতনতা তৈরির পাশাপাশি তরুণদের বিজ্ঞানভিত্তিক জ্ঞানচর্চা ও প্রকৃতিবান্ধব কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করার একটি কার্যকর প্ল্যাটফর্ম তৈরি হবে বলে আশা করেন সংশ্লিষ্টরা।