নিজস্ব প্রতিবেদক: ১১ নভেম্বর ২০২১ সালে রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার সব কয়টি ইউনিয়ন পরিষদে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। দিনব্যাপি ভোট গ্রহন শেষে রাতেই মধ্যেই সব গুলো ইউনিয়নের ফলাফল প্রকাশ করা হয়। এতে বেসরকারীভাবে গোগ্রাম ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে প্রিসাইডিং অফিসারদের দেওয়া ফলাফল শিট অনুযায়ী ১০টি কেন্দ্রে চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে আনারস প্রতীক নিয়ে হযরত আলী পেয়েছিলেন ৯ হাজার ৮০১ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন। আর নৌকার প্রার্থী মজিবর রহমান পেয়েছিলেন ৯ হাজার ২৮৭ ভোট। হযরত ৫১৪ ভোট বেশি পেয়ে জয়লাভ করেন। কিন্তু সরকারীভাবে রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে তাঁর ফলাফল ঘোষণায় গড়িমসি করা হয় এবং শেষে গভীর রাতে তাঁর ফলাফল পাল্টে নৌকার প্রার্থীকে বিজয়ী ঘোষণা করা হয় বলে সে সময়ে অভিযোগ উঠেছিলো।
ঘোষিত ফলাফলের বিরুদ্ধে হযরত আলী রিট করেছিলেন। এ নিয়ে হাইকোর্ট বেঞ্চে শুনানি হয়। শুনানী শেষে দুইমাস নির্বাচন কমিশন এই ফলাফলের গেজেট প্রকাশ করতে পারবে না মর্শে আদেশ দেন। কিন্তু দুইমাস না জেতেই নৌকার প্রার্থী মজিবর রহমান শপথ গ্রহন করেন। এ নিয়ে জোরপূর্বক পরাজিত করা প্রার্র্থী হযরত আলী নড়েচড়ে বসেন। তার তদারকীকে রাজশাহী জেলা নির্বাচন ট্রাইব্যুনাল জেলা সদর সিনিয়র জজ কোর্ট, চেয়ারম্যান প্রার্থীদের ব্যালট পেপারগুলো গোদাগাড়ী উপজেলা নির্বাচন অফিসার ও নির্বাচনী রিটার্নিং অফিসারকে অত্র কোর্টে জমা দেয়ার জন্য আদেশ দেন। সেই আদেশ বলে বৃহস্পতিবার রিটার্নিং অফিসার গোগ্রাম ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যানদের সিলমোহরকৃত ব্যালট পেপার কোর্টে নিয়ে আসলে রাজশাহী জেলা নির্বাচন ট্রাইব্যুনাল জেলা সদর সিনিয়র জজ কোর্টের বিজ্ঞ বিচারক সিজার লিষ্ট তৈরী করে তা গ্রহন করেন এবং সিলগালা করে হেফাজতে রাখেন।
এ বিষয়ে প্রার্থী হযরত আলী বলেন, বৃহস্পতিবার বিচারক চেয়ারম্যানদের ব্যালট পেপার গ্রহন করেন। তবে এদিন কোন শুনানী হয়নি। আগামী রোববার জানা যাবে কবে নাগাদ এ বিষয়ে কার্যক্রম শুরু এবং ব্যালট পেপার গননা করা হবে। তবে ব্যালট পেপার গুলো কোর্টে নিয়ে আসায় তার এক প্রকার বিজয় হয়েছে বলে জানান। এছাড়াও তিনি সম্পূর্নভাবে আসাবাদী ব্যালট পেপার গুলো গণনা করা হলে তাঁর বিজয় তিনি ফিরে পাবেন।
এদিকে গোগ্রাম ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যানদের সিলমোহরকৃত ব্যালট পেপার কোর্টে প্রদান বিষয়ে জানতে চাইলে গোদাগাড়ী উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা ও রিটার্নিং অফিসার মশিউর রহমান বলেন, কোর্টের আদেশে তিনি অত্র ইউনিয়নের ব্যালট পেপারগুলো কোর্টে জমা দিয়েছেন। এখন এ বিষয়ে কোর্ট সিদ্বান্ত নেবেন বলে জানান তিনি।