নিজস্ব প্রতিবেদক: রাজশাহী সরকারী মডেল স্কুল এন্ড কলেজে আবারও সরকারী নিয়ামুযায়ী নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি ছাড়াই শিক্ষক নিয়োগ দেয়ার পাঁয়তারা শুরু করেছে কর্তৃপক্ষ। এমনটাই অভিযোগ পাওয়া গেছে। অত্র প্রতিষ্ঠানের ওয়েভসাইড থেকে ২৯-০১-২৬ তারিখে অস্থায়ী ভিত্তিতে প্রাপ্ত নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে দেখা যায় সহকারী শিক্ষক হিসেবে পাঁচটি পদ রয়েছে। এগুলো হলো সহকারী শিক্ষক ইংরেজি, সহকারী শিক্ষক বাংলা, সহকারী শিক্ষক সামাজিক বিজ্ঞান, সহকারী শিক্ষক ভৌত বিজ্ঞান ও সহকারী শিক্ষক আইসিটি। রাজশাহী সরকারী মডেল স্কুল এন্ড কলেজ থেকে কোন পত্রিকায় এটা প্রকাশ করা হয়নি। শুধু তাইনয় নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির সরকারী আদেশ এখানে অনুসরণ করা হয়নি। আর সময় দেয়া হয়েছে মাত্র সাতদিন। তরিঘরি করে এটা করার পাঁয়তারা করা হচ্ছে বলে বিভিন্ন সুত্রে জানা গেছে।
এনিয়ে জনমনে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি এবং অত্র প্রতিষ্ঠানের মধ্যেও নানা গুঞ্জন শুরু হয়েছে। তারা বলছেন নিয়োগ দেবেন ভাল কথা কিন্তু সরকারী নিয়ম মানতে হবে। এছাড়াও চলতি মাসের ১২ তারিখ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। এই নির্বাচন নিয়ে সরকারী ও বেসরকারী সবাই ব্যস্ত। এ সময়ে কোনভাবেই নিয়োগ হতে পারেনা। এই নিয়োগ দেয়ার পাঁয়তারা বন্ধ করতে কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন সবাই।
তারা আরো বলেন, যাদেরকে নিয়ে নিয়োগ কমিটি করা হয়েছে তারা হলেন, নিয়োগ কমিটির প্রধান ড. সেরাজুল ইসলাম। বিগত সতের বছর আওয়ামী লীগের শাসনামলে সকল অধ্যক্ষকে ম্যানেজ করে চলতেন এবং বিভিন্ন ধরনের সুযোগ সুবিধা গ্রহণ করেছেন তিনি। কমিটির আরেকজন অন্যতম সদস্য ড. নুরুল ইসলাম । তার নিজ এলাকা জামালপুর জেলায়। বঙ্গবন্ধু পরিষদের অন্যতম সদস্য এবং আওয়ামীলীগের সক্রিয় কর্মী ছিলেন তিনি। এই আওয়ামী লীগ কর্মী এখনো স্বপ্ন দেখেন সাবেক স্বৈরাচার ও পলাতক নেত্রী শেখ হাসিনা অচিরেই দেশে ফিরে আবার ক্ষমতা দখল করবেন। এই নুরুল ইসলাম একাধিকবার ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন এবং সে সুযোগে তিনি আওয়ামী লীগ পন্থী শিক্ষকদের বারবার বিভিন্ন ধরনের আর্থিক কমিটিতে দায়িত্ব দেওয়ার অপচেষ্টা করেছেন।
কমিটির আরেকজন সদস্য শাহিন ইসলাম রাজশাহীর মহানগরীর হড়গ্রাম এলাকার বাসিন্দা। ২০০৬ সালে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নিয়োগে তৃতীয় শ্রেণীর কর্মচারী ‘হিসাব রক্ষক’ হিসেবে নিয়োগ পান। কিছুদিন পরে তৎকালীন নিয়োগ-বাণিজ্যের একমাত্র হোতা অত্র শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ এস এম জার্জিস কাদের এর আমলে কৌশলে প্রভাষকের পথটি বাগিয়ে নেন । বর্তমানে শাহিন ইসলাম নিজেকে সিনিয়র প্রভাষক হিসেবে দাবি করেন । সরকারি চাকরি করার পাশাপাশি তিনি রাজশাহী শহরের বিভিন্ন ধরনের ব্যবসা-বাণিজ্য, ডেভেলপিং ব্যবসা, জমি কেনাবেচা থেকে বিপুল টাকা অর্জন করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। কলেজের সংস্কার কমিটি থেকে শুরু করে বিভিন্ন বড় বড় আর্থিক কমিটি গুলোতে তিনি সব সময় থাকেন । এই শাহীন ইসলাম বর্তমানে নিয়োগ কমিটির অন্যতম সদস্য ।
এখন সরকার পরিবর্তনের সাথে সাথে সে তার খোলস পরিবর্তন করে বর্তমান সরকার দলীয় বলে দাবি করেন তিনি। কমিটির আরেকজন সদস্য গোলাম রব্বানী। তিনিও আওয়ামী লীগ সমর্থক। তাঁর পরিবারের অনেকেই আওয়ামী লীগের সক্রিয় কর্মী। কমিটির সব শেষ সদস্য হযরত আলী ইসলামের একনিষ্ঠকর্মী বলে জানা গেছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে অত্র প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ প্রফেসর শামসুল হক বলেন, এটা সম্পুর্ণ অস্থায়ী নিয়োগ। এই নিয়োগে কোন সার্কুলেশন এর প্রয়োজন হয়না। এই সকল শিক্ষককে যে কোন সময়ে কর্তৃপক্ষ বাতিল করতে পারে। আর নিয়োগ কমিটির শিক্ষকগণ কোন দলের তিনি তা জানেন না। তিনি সিনিয়র দেখে তাঁদের নিয়োগ কমিটিতে রেখেছেন বলে জানান তিনি। নির্বাচেনর আগে কেন নিয়োগ জানতে চাইলে তিনি সন্তোষজনক উত্তর দিতে পারেননি।