নিজস্ব প্রতিবেদক: রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মরত সাংবাদিকদের ওপর হামলার প্রতিবাদে প্রশাসনিক ভবন ঘেরাও করে অবস্থান কর্মসূচি পালন করে শিক্ষার্থীরা। রোববার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে তাঁরা এ কর্মসূচি শুরু করেন। এ সময় শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন স্লোগান দেন। তাঁদের স্লোগানের মধ্যে ছিল, ‘আমার ভাই আহত কেন, প্রশাসন জবাব চাই’, ‘ঘটনার সিসি ক্যামেরা গায়েব কেন, প্রশাসন জবাব চাই’ এবং ‘চিহ্নিত অপরাধীদের মামলায় অজ্ঞাতনামা করা হলো কেন, প্রশাসন জবাব চাই’।
অবস্থান কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মরত সাংবাদিকদের প্রকাশ্যে মারধরের ঘটনা ঘটলেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে দায়ের করা মামলায় হামলাকারীদের অজ্ঞাতনামা করা হয়েছে। তাঁদের দাবি, হামলার ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ওই ভিডিওতে হামলায় জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করা সম্ভব হলেও তাঁদের বিরুদ্ধে এখনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
অভিযোগ করে শিক্ষার্থীরা বলেন, সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন একটি আহ্বায়ক কমিটি গঠন করে দায়িত্ব শেষ করেছে। এতে তাঁরা সন্তুষ্ট নন। হামলার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে তাঁদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধি অনুযায়ী তাঁদের ছাত্রত্ব বাতিলের দাবি জানান তাঁরা।
অবস্থান কর্মসূচিতে শিক্ষার্থীরা বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা প্রশাসনের দায়িত্ব। ভবিষ্যতে যাতে এ ধরনের ঘটনা না ঘটে, সে জন্য হামলার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। শিক্ষার্থীরা জানান, তাঁদের দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত তাঁরা আন্দোলন চালিয়ে যাবেন। তবে এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও অভিযুক্ত ছাত্রসংগঠনের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।
এদিকে ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদের সিদ্ধান্ত মোতাবেক সাংগঠনিক শৃংখলা ভঙ্গের কারণে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সহ-সভাপতি আহসান হাবিব, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হাবিব হাসানকে সাংগঠনিক পদ এবং ছাত্রনেতা বিশাল চক্রবর্তীকে প্রাথমিক সদস্য পদ থেকে বহিস্কার করা হয়েছে। সোমবার ছাত্রদল দপ্তর সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম কর্তৃক পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তি থেকে জানা গেছে।
এছাড়াও সোমবার একই ব্যক্তির স্বাক্ষরীত আরেকটি প্রেস বিজ্ঞপ্তি থেকে জানা গেছে সহ-সভাপতি তাকবীর আহমেদ ইমন, বুলবুল রহমান, শরিফুল ইসলাম ও ফারুক হোসেন, সহ দপ্তর সম্পাদক শাহারিয়ার আলম এবং ছাত্রনেতা সাজুকে এই ঘটনায় কারণ দর্শানোর নোটিশ প্রদান করেছে ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদ। সেইসাথে চুড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়ার আগে ৪৮ ঘন্টার মধ্যে ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক এর নিকট নেতৃবৃন্দদের হাজির হয়ে ব্যাখ্যা প্রদানের নির্দেশ দিয়েছেন।