নিজস্ব প্রতিবেদক: রাজশাহী বিভাগের বিভাগীয় ও জেলা পর্যায়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় আইন শৃংখলা রক্ষা এবং মাদক নিয়ন্ত্রণে প্রশাসনকে সততা, দক্ষতার সাথে দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দেন ভূমি মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী মিজানুর রহমান মিনু এমপি। শুক্রবার সকালে রাজশাহী সার্কিট হাউজের সম্মেলন কক্ষে বিভাগীয় প্রশাসন ও জেলা প্রশাসনের আয়োজনে সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। তিনি আরো বলেন,“তিনি রাজশাহীর মাটির সন্তান। তাঁরা সবাই একে অপরের সহকর্মী। কেউ কারও বস নই। আপনারা সাংবিধানিক দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা-কর্মচারী। আপনাদের উপওে অর্পিত দায়িত্ব¡ যথাযথভাবে পালন করতে হবে।
তিনি জোর দিয়ে বলেন, আইন সবার জন্য সমান। “তাঁর সন্তানও যদি আইন লঙ্ঘন করে, তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে কোন প্রকার সংকোচ করা বা দ্বিধা করা যাবেনা।
ভূমিমন্ত্রী প্রশাসনের কর্মকর্তাদের উদ্দেশে বলেন, দায়িত্ব পালনে কোনো অবহেলা বরদাশত করা হবে না। সততা, দক্ষতা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনা করতে হবে। জনগণের সঙ্গে সম্মানজনক আচরণ ও সেবামুখী মনোভাব নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, জনগণ প্রশাসনের কাছে ন্যায়বিচার ও কার্যকর সেবা প্রত্যাশা করে। রমজান মাসে জনদুর্ভোগ এড়াতে বিশেষ প্রস্তুতি নেওয়ার নির্দেশ দিয়ে তিনি বলেন, বাজার পরিস্থিতি, আইনশৃঙ্খলা ও জনসেবা খাতে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। মাদকের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি বাস্তবায়নে কঠোর অবস্থান নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান দেশের উন্নয়নে প্রতিদিন আঠারো ঘণ্টা কাজ করছেন। তাঁর সুযোগ্য নেতৃত্বে ঘোষিত ৩১ দফা বাস্তবায়নে সমন্বিতভাবে কাজ করা হবে। সরকারের প্রতিটি দফতর সাংবিধানিক কাঠামোর মধ্যেই পরিচালিত হবে এবং আইন তার নিজস্ব গতিতে চলবে। উন্নয়ন কার্যক্রমে গতি আনতে খাল খনন ও বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
তিনি আরো বলেন, রাজশাহী শান্তির শহর এবং ক্লিন সিটি হিসেব পরিচিত হলেও দীর্ঘ সতের বছরে তার পাল্টে গেছে। এখন এই শহর নিরাপদ নয়। শহরটি আর ক্লিন সিটির দাবী করতে পারছেনা। অথচ বিএনপির আমলে সাতবার এই সিটি পরিবেশ অধিদপ্তর হতে প্রথম স্থানের পুরস্কার গ্রহন করেছে। তিনি আবার এই সিটিকে সেইভাবে সাজানোর কথা বলেন। আর এরজন্য সবার সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।
প্রধান অতিথির বক্তব্যের পূর্বে সরকারের বিভিন্ন দপ্তর হতে আগত কর্মকর্তাগণ পরিচিত হন এবং তাঁর নিজ নিজ দপ্তরের মাঠপর্যায়ের বিভিন্ন সমস্যা ও সম্ভাবনার কথা তুলে ধরেন। মতবিনিময় সভাটি প্রশাসনিক কার্যক্রমে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও সমন্বয় জোরদারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা প্রকাশ করেন।
সভায় সভাপতিত্ব করেন বিভাগীয় কমিশনার ড. আ. ন. ম. বজলুর রশীদ। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাজশাহী-৩ আসনের নব নির্বাচিত সংসদ সদস্য এডভোকেট শফিকুল হক মিলন, বিএনপি জাতীয় নির্বাহী কমিটির বন ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক, রাজশাহী মহানগর বিএনপির সাবেক সভাপতি ও রাসিক সাবেক মেয়র মোহাম্মদ মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল, রাজশাহী রেঞ্জের ডিআইজি মোহাম্মদ শাহজাহান, রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল পিকে এম মাসুদ-উল-ইসলাম, জেলা প্রশাসক আফিয়া আখতার ও পুলিশ সুপার মোহাম্মদ নাঈমুল হাছান।