নিজস্ব প্রতিবেদক: মোহনপুরের কেশরহাটে গোকুইল মালিথাপাড়ায় সোমবার দিবাগত গভীর রাতে পবা-মোহনপুর আসনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মনোণীত প্রার্থী আবুল কালাম আজাদ গিয়েছিলেন। সেখানে কে বা কাহারা জামায়াতের নির্বাচনী কার্যালয়ের ব্যানার ফেন্টুন ছিড়ে ফেলেছে বা ভেঙ্গে ফেলেছে। প্রথমে তারা দেখেনাই। পরে তারা বিএনপির লোকজনকে গালিগালাজ করেছে বলে মঙ্গলবার রাতে এক বিবৃতে বিএনপি জাতীয় নির্বাহী কমিটির ত্রাণ ও পুনর্বাসন বিষয়ক সহ-সম্পাদক, রাজশাহী মহানগর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও পবা-মোহনপুর আসনের বিএনপি মনোনীত ধানের শীষের প্রার্থী এডভোকেট শফিকুল হক মিলন।
তিনি বলেন, এ ঘটনা নিয়ে আবুল কালাম আজাদ একজন দ্বায়িত্ব শীল নেতা হিসেবে আইন শৃংখলাবাহিণীকে জানানো উচিৎ ছিলো। সেইসাথে বিষয়টি এই পর্যায়ে রাখাই দরকার ছিলো। কিন্তু পরিতাপের বিষয় হচ্ছে, তিনি তা না করে চিল্লাচিল্লি এবং প্রশাসনকে থ্রেট করে, নির্বাচনকে হুমকীর মধ্যে ফেলে রাখেছে। পরাবর্তীতে তিনি মোহনপুর থানায় রাত চারটা পর্যন্ত বসে থেকে বিএনপির এজেন্ট ও নেতাকর্মীর বাড়িতে পুলিশ পাঠিয়েছেন বলে জানান তিনি।
তিনি পুলিশের সাথে এ বিষয়ে কোন কথা বলেননি উল্লেখ করে মিলন বলেন তিনি এটা শুনেছেন। এজাহার হলেও পুলিশ তাৎক্ষণিক আসামী ধরতে যায়না। অথচ এজাহার হওয়ার পূর্বেই পুলিশ গিয়ে হাজির হয়েছে। এটা একটি নির্বাচন কেন্দ্রিক ষড়যন্ত্র বলে মনে করেন তিনি। এখানে একটি সহজ বিষয়কে জটিল করা হয়েছে। তাঁর অনেক ব্যানার ফেস্টুন কে-বা কারা ছিড়ে ফেলেছে। কিন্তু এ বিষয়ে তিনি কোন প্রকার অভিযোগ করেননি। আসল বিষয়টা কি সে নিয়ে তিনি উদ্বিগ্ন। নির্বাচনের পরিবেশ নিয়ে তিনি কিছু করছেন কিনা সে বিষয়ে সজাগ থাকার আহ্বান জানান। প্রকৃত পক্ষে ধানের শীষের জোয়ার দেখে আবুল কালাম আজাদ ভয় পেয়েছেন উল্লেখ করেন তিনি।
তিনি বলেন, নির্বাচন হচ্ছে একটি গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া। এই প্রক্রিয়াতে সবাইকে সহযোগিতা করতে হবে। তাঁরা যারা প্রার্থী তাদের অবশ্যই করতে হবে। জামায়াতের প্রার্থীর এই ঘটনায় সংশয়ের সৃষ্টি হয়েছে। পাশাপাশি পুলিশ গভীর রাতে তাঁর নেতাকর্মীর বাড়িতে যাওয়ারও তিনি এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান। থানা ঘেরাও করে যদি মানুষের বাড়িতে যেয়ে নেতাকর্মীদের আটক করতে পাঠানো হয়, সেটা হচ্ছে মব কালচারালের মত। এ ধরনের কর্মকান্ড থেকে বিরত থাকার অনুরোধ জানান তিনি। সেইসাথে এমন ঘটনা যেন ভবিষ্যতে আর না ঘটে সেজন্য নিজ নেতাকর্মীসহ অন্যান্য সবাইকে অনুরোধ জানান। কোন প্রকার হটকারী কর্মকান্ডে না যেয়ে সবাইকে সহনশীল হওয়ার আহ্বান জানান মিলন।
জনগণের ম্যান্ডেট জনগণ তাদের পছন্দের প্রার্থীকে দেবেন। এ নিয়ে তাদেরতো কোন সমস্যা হওয়ার কথা নয় বলে উল্লেখ করে এ পর্যন্ত সবাই নির্বাচণী প্রচারণা সুন্দরভাবে করে গেছেন। এখন কেন এ ধরনের পরিবেশ এর সৃষ্টি হবে। তিনি নেতাকর্মীদের সজাগ থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেন, কোন বিশেষ করে পোলিং এজেন্ট যেন ভোট সেন্টারে যাওয়ার পরে কোন প্রকার মব সৃষ্টি না হয়। ভোট দিতে গিয়ে সকাল সকাল যেন কেউ ভোটারদের মধ্যে যেন কেউ মব সৃষ্টি না করতে পারে। এছাড়াও একটা ভোট দিতে গিয়ে যেন ডবল ব্যালট পেপার বাক্সে না ঢোকাতে পারে, কেউ যেন জাল ভোট না দিতে পারে এবং মব সৃষ্টি না করতে পারে সেজন্য সকল নেতাকর্মী ও ভোটারদের সজাগ থাকার আহ্বান জানান তিনি।