নিজস্ব প্রতিবেদক: বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের ভূমি মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী মিজানুর রহমান মিনু বলেন, জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় রাজশাহীর উন্নয়ন করা হবে। এখানে জনগণসহ বিএনপির নির্বাচিত চারজন সংসদ সদস্যকে নিয়ে এই উন্নয়ন পরিকল্পনা গ্রহন করা হবে বলে জানান তিনি। আর এই শান্তিপূর্ণ অবস্থানে ফিরে আসতে যারাই বাধা দিবে তাদের বিরুদ্ধে উপযুক্ত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থার মধ্য দিয়ে শান্তি সুনিশ্চিত করা হবে। যে সমস্ত পরিকল্পনাগুলি করতে হয়। শনিবার দুপুরে রাজশাহী মহানগরীর সাহেব বাজারে অবস্থিত একটি কমিউনিটি সেন্টারের সম্মেলন কক্ষে রাজশাহী নাগরিক কমিটি আয়োজিত শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য এসব কথা বলেন তিনি।
মন্ত্রী আরো বলেন, আপনারা জানেন যে, এই মন্ত্রনালয়ের সঙ্গে প্রায় ১৬ টি প্রতিষ্ঠান জড়িত। সবগুলোকে সমন্বিতভাবে নিয়ে এসে তিনি এখানকার সন্তান হিসেবে রাজশাহী তথা দেশবাসীর উন্নয়নে কাজ করবেন। সেইসাথে রাজশাহী মহানগরীকে সুন্দর নগরী হিসেবে গড়ে তোলা হবে উল্লেখ করেন তিনি। তিনি বলেন, বিএনপির আমলে রাজশাহীতে গ্যাস লাইন স্থাপন ও চালু করা হয়। আবারও গ্যাস সংযোগের ব্যবস্থা করা হবে। সেইসাথে রুগ্ন শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলো সচল করার পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানান তিনি।
তিনি বলেন, রাজশাঞীতে সিল্ক একটি সম্ভাবনাময় শিল্প। এই শিল্পের প্রসারে ব্যবস্থা এবং বিদেশীদের সাথে আলোচনা সাপেক্ষে রাজশাহীতে একটি ইপিজেড স্থাপনের করবেন বলে জানান তিনি। মন্ত্রী আরো বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান কর্তৃক ঘোষিত ৩১ দফা বাস্তবায়নের মধ্যে দিয়ে বিএনপি যেমন সারা দেশের উন্নয়ন করবে, তেমনি তিনি এর আলোকে রাজশাহী উন্নয়ন করবেন বলে আশ্বাস প্রদান করেন। সেইসাথে প্রতি সপ্তাহে রাজশাহীতে আসবেন এবং জনগণের সাথে কথা বলবেন বলে জানান তিনি।
তিনি সবার নিকেট দোয়া চেয়ে বলেন, তাঁর মধ্যে যেন কোন অহংকার না হয়। ‘আমি’ আর ‘আমার’ এ ধরনের মনোভাব যেন না আসে। ‘আমরা সবাই মিলে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাব। সেজন্য রাজশাহীতে বিশেষ করে সন্তানদেরকে এগিয়ে নেওয়ার জন্য কম্পিউটার প্রযুক্তিকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া এবং আইটি সেক্টরকে পুরোপুরি কাজে লাগিয়ে কর্মসংস্থান এবং দক্ষ নাগরিক হিসেবে যুবসমাজকে গড়ে তোলা হবে বলে জানান তিনি। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী বলেছেন সততার সঙ্গে নিজ নিজ দায়িত্ব পালন করার জন্য। তিনি সকাল ৯টা থেকে রাত্রি ৯টা পর্যন্ত অফিস করেন। বিশেষ ছুটির দিনও তিনি অফিস করেন এবং দিক নির্দেশনা দিচ্ছেন বলে জানান তিনি।
তিনি বলেলন, গত ১৭ বছরে রাজশাহী অনেক পিছিয়ে গেছে। উন্নয়নের যে দাবি জনগণের ছিল তিনি পূরণের আশ্বাস দিয়েছিলেন। ইনশাআল্লাহ সেগুলো করা হবে বলে জানান তিনি। মন্ত্রী আরও বলেন, রাজশাহী সে সময় ছিল সারা বিশ্বের হ্যাপি সিটি ওয়ার্ল্ড মিডিল ক্যাটাগরিতে, সে সম্মান আমাদের ছিল । যা কিছু উন্নয়ন আছে তা আমাদের জনগণের সামনেই আছে এবং আগামী দিনে আরো কিছু অগ্রগতি সরাসরি আমরা নেতৃত্ব যারা দেই তাদের সবাইকে আমাদের বলার অধিকার আছে । আর আমি আপনাদের সন্তান হিসেবে চেষ্টা করছি যে ছুটির দিনে আপনাদের সাথে থাকব।
জনগণের প্রত্যাশা পূরণের জন্য তিনি কাজ করবেন। উপস্থিত নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, তিনি মানুষ। কাজ করতে গেলে ভুল হলে ধরিয়ে দেয়ার কথা বলেন। যারা তাঁর ভূঔত্রুটি ধরিয়ে দেবেন তারাই তাঁর প্রকৃত বন্ধুি বলে উল্লেখ করেন তিনি।
বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন, রাজশাহী-৩ আসনের এমপি এডভোকেট. শফিকুল হক মিলন। তিনি উপস্থিত বক্তাগণের সাথে একমত হয়ে, ভূমি মন্ত্রীর কাছে দুটি দাবি করেন, এর মধ্যে একটি হল রাজশাহীতে পূর্ণাঙ্গ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় চালু করা ও ইপিজেড প্রতিষ্ঠা। এর আগে রাজশাহী নাগরিক কমিটির নেতারা তাদের বক্তব্যে মন্ত্রীকে বিভিন্ন পরামর্শ দেন ও রাজশাহীর উন্নয়নে কাজ করার দাবি জানান।
সভায় রাজশাহী নাগরিক কমিটির আহ্বায়ক প্রফেসর এম রফিকুল ইসলামের সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন, রাজশাহী মহানগর বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক এডভোকেট এরশাদ আলী ঈশা, রাজশাহী বারের সভাপতি এডভোকেট আবুল কাশেম, ডা. ওয়াসিম হোসেন, এডভোকেট এনামুল হক, এডভোকেট আলী আশরাফ মাসুম, রাজশাহী মহানগর বিএনপির সহ-সভাপতি আসলাম সরকার, এডভোকেট পারভেজ তৌফিক জাহেদি, এডভোকেট জমসেদ আলী, প্রফেসর ড. হাবিবুর রহমান ও প্রফেসর ড. ফৌজিয়া প্রমুখ। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন রাজশাহী নাগরিক কমিটির সদস্য সচিব প্রফেসর আক্তার হোসেন।
উল্লেখ্য, এর আগে ভূমিমন্ত্রী মিজানুর রহমান মিনুকে নগরীর অপর একটি কমিউনিটি সেন্টারে বিভিন্ন শ্রেনীপেশার মানুষ ফুলেল শুভেচ্ছা জানান।